ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ই আশ্বিন ১৪২৭


সাকিবের ভাবনায় এখন ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ


প্রকাশিত:
১৭ এপ্রিল ২০২০ ১০:১৪

আপডেট:
১৭ এপ্রিল ২০২০ ১০:২১


নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর সাকিব ফিরতে পারবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। নিষেধাজ্ঞার সময়টাতেও তাঁর মাথায় ঘুরছে ক্রিকেট। ভাবছেন ২০২৩ বিশ্বকাপ নিয়ে, যেটি হতে পারে তাঁর শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। অবশ্য ভাবনাটা ছিল ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার। তবে সবকিছু ওলট পালট হয়েছে নিষেধাজ্ঞায় পড়ে। এক বছরের স্থগিতাদেশ মিলিয়ে মোট দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন সাকিব আল হাসান। এর আগে অবশ্য ইংল্যান্ডে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সারা বিশ্বকে দেখিয়েছেন কেন তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তবে সাকিব বলছেন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের থেকেও আরো দুর্দান্ত হবে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স। বর্তমানে নিজের পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সাবেক  টেস্ট ও টি-টোয়ন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সময় কাটাচ্ছেন নিজের পরিবারের সঙ্গে। আর যুক্তরাষ্টে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাকিব। প্রতিষ্ঠা করেছেন 'দ্য সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন',যার মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন করোনাক্রান্তদের মাঝে। করোনার এই অবসরেই সময় কাটানো সাকিব ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন প্রায়ই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভক্তের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সাকিব। সেখানে বেশ কিছু প্রশ্নও গ্রহণ করেন সাকিব। ২০২৩ বিশ্বকাপ নিয়ে করা হয় প্রশ্ন। উত্তরে সাকিব জানিয়েছেন, ভারতের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো করার বেশ ভালো সম্ভাবনা থাকবে।

সাকিব বলেছেন,‘আমাদের বর্তমান দলে খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই। যেই জিনিসগুলো দরকার সেটা এই দলে আছে। এখন যারা খেলছে তাদের মোটামুটি সব আছে। কিন্তু পরিচর্যার খুব বেশি দরকার। পাশাপাশি যথাযথ প্রস্তুতি দরকার। আমি মনে করি আমরা ভালো দল হয়ে ২০২৩ বিশ্বকাপ খেলতে পারব। আইসিসি টুর্নামেন্টে কন্ডিশনে খুব পার্থক্য তৈরি করে না। কারণ উইকেট খুব ভালো থাকে। ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি থাকে। যেটা ২০১৫ বিশ্বকাপে এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে ছিল।’ এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপটা কেটেছে তার স্বপ্নের মতো। ৮ ম্যাচে ব্যাট হাতে হাঁকিয়েছেন ৬০৬ রান  আর বাঁ হাতের ঘূর্ণিতে ঝুলিতে পুরেছিলেন ১২টি উইকেট। বিশ্বকাপে এর আগে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স কখনোই দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকতে চাননা সাকিব। তিন বছর পর ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে এর থেকেও ভালো পারফরম্যান্স করার প্রত্যয় তার। বিশ্বকাপের উইকেটগুলো সব সময়ই ব্যাটিং বান্ধব-এমনটাই মনে করেন সাকিব। যার ব্যতিক্রম আগামী বিশ্বকাপে হবে বলে মনে করছেন না তিনি। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর বসবে ভারতে। তা নিয়ে সাকিবের মত, 'ভারতে খেলা। সেখানকার কন্ডিশন আমাদের মতোই। তবে আইসিসি টুর্নামেন্টে কন্ডিশন খুব একটা পার্থক্য সৃষ্টি করে না। উইকেট ব্যাটিং সহায়ক থাকে, যেটা ২০১৫ বিশ্বকাপেও ছিল, ২০১৯ সালেও ছিল।' সাকিব মনে করেছেন তার বিকেএসপি'র জীবনের সময়টুকুও। অতীত মনে করে সাকিব বলেন,'আমার সবচেয়ে স্মরণীয় ও সবচেয়ে মজার সময় ছিল বিকেএসপির সময়টা। হ্যা, প্রথম দুই-আড়াই মাস কঠিন ছিল। নতুন মানুষদের সঙ্গে পরিবার ছেড়ে একা একা থাকা। কিন্তু এরপরের প্রতিটি দিন নিয়েই আমার মনে হয় আমি একটি করে বই লিখতে পারব।

এতোই মজার ছিল আমার বিকেএসপি জীবন। এতোই মজা করেছি যে ছুটিতেও আমি বিকেএসপিতে  যেতাম।' গত বিশ^কাপে পারফরম্যান্সে সাকিব নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন  যে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তার হাতে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকত না।  অবশ্য কেন উইলিয়ামসন পুরস্কার পেলেও ফাইনালের মঞ্চে উচ্চারিত হয় সাকিবের কীর্তি। বুক ভরা আত্মবিশ্বাস আর মাঠের ক্রিকেটে হার না মানা মনোবলে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সাকিব হয়ে ওঠেন অসাধারণ। কিন্তু শেষ অক্টোবরে সাকিবকে সামলাতে হয় আরেক ঝড়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর জুয়াড়ির দেওয়া প্রস্তাবের কথা যথাযথ কর্তৃপক্ষ না জানানোর কারণে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয় সাকিব আল হাসানকে। এর মধ্যে অবশ্য এক বছর স্থগিতাদেশসহ। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর শেষ হবে সাকিবের নিষেধাজ্ঞা। এরপর আবারো ফিরবেন সাকিব।


বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top