ঢাকা সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ই আশ্বিন ১৪২৭

ঘুরে আসুন পুরাতন ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নয়নাভিরাম হোসেনী দালান থেকে


প্রকাশিত:
২১ অক্টোবর ২০১৯ ১৬:১৭

আপডেট:
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৪৭

পুরাতন ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড এলাকার প্রায় ৩০০ বছরের পুরানো স্থাপনা হোসেনী দালান দেখতে বেশ সুন্দর। প্রবেশ পথ দিয়ে ভিতরে ঢুকলে বড় বাগান, দীঘি মূল স্থাপনা চোখে পড়বে। ৯৩৮০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে শিয়া সম্প্রদায়ের এই উপাসনালয়।

প্রবেশ করতে পারেন সব ধর্মের দর্শনার্থীরাই। হোসেনী দালানের সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ধারণা করা হয় সপ্তদশ শতকে ১৬৪২ সালের দিকে মোগল সম্রাট শাহজাহানের ছেলে শাহ সুজার নির্দেশে সৈয়দ মুরাদ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন।

কারবালা প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসেনের শাহাদৎবরণকে স্মরণ করার জন্য নির্মিত হয়েছিল এই হোসেনী দালান। একে ইমামবাড়াও বলা হয়। ইমামবাড়া নির্মাণ শিয়া সম্প্রদায়ের একটি প্রচলিত রীতি।

প্রথমে এটি ছিল তাজিয়াখানা। পরে অন্যান্য অংশ গড়ে তোলা হয়। ১৮০৭ থেকে ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে এর অনেক অংশ গড়ে ওঠে। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে দালানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবার নতুন করে অনেক অংশ নির্মাণ করা হয়। ঢাকার নবাব খাজা আহসান উল্লাহ ভবনটি নতুনভাবে গড়ে তুলতে সে সময় লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেন

দালানটি একটি উঁচু মঞ্চের উপর অবস্থিত। প্রবেশের জন্য পূর্বদিকে একটি প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। দালানের ভিতরে দুটি বড় আকারের হলঘর রয়েছে। বিশাল আকারের এই হলঘরদুটিও খুব সুন্দরভাবে কারুকার্য করা। ক্যালিওগ্রাফির চমৎকার নির্দশন রয়েছে দেওয়ালে। হলঘর দুটির সঙ্গে আরও কয়েকটি ছোট ছোট কক্ষ রয়েছে।

দক্ষিণ দিকের সামনের অংশে দুপ্রান্তে দুটি তিনতলা বুরুজ আছে। বুরুজগুলোর শীর্ষে রয়েছে গম্বুজ। ভবনের প্যারাপেটে রয়েছে রঙিন নকশা যা পদ্মফুলের আকৃতির। আর এর চার কোণে রয়েছে চারটি ছত্রী।

হোসেনী দালানে আরও রয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের কবরস্থান। আঙিনার শেষ অংশে রয়েছে মোগল আমলে নির্মিত ফটক

জাতীয় জাদুঘরে হোসেনী দালানের একটি চমৎকার রেপ্লিকা রয়েছে যা পুরোটি রূপা দিয়ে তৈরি

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে হোসনি দালানে জেএমবির সদস্যরা বোমা হামলা চালায় এতে এক কিশোরসহ দুজন নিহত শতাধিক ব্যক্তি আহত হন




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top