ঢাকা বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ই আশ্বিন ১৪২৭


অর্থনীতিতে সামনে বড় চ্যালেন্জ


প্রকাশিত:
২৯ এপ্রিল ২০২০ ১৬:৩৯

আপডেট:
২৯ এপ্রিল ২০২০ ১৬:৪১

অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান
করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট আসছে আমাদের সামনে। সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারকে। অর্থনীতিবিদগন বলেছেন তিন বছর মেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেওয়া উচিত সরকারের। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবারের বাজেট ঘোষণা করতে হবে। ইতিমধ্যেই বাজেট প্রস্তুতীর কাজ শুরু করেছে সরকারের অর্থবিভাগ।নতুন বাজেটের আকার হবে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।করোনা পরিস্হতির কারনে নতুন ধরনের রাজস্ব নীতি ও মুদ্রানীতি করতে হবে।
করোনাভাইরাসের লকডাউনে পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি এখন স্থবির। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের আন্তর্জাতিক শিল্পবাণিজ্য। ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এতে বিপুল পরিমাণ লোক চাকরি হারাচ্ছে। আগামীর অর্থনীতিতে বেকারত্বই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
সামনে বেকারত্ব নিয়ে বড় ধরনের ধাক্কা আসবে। সেটা সামলানোর প্রস্তুতিটা নিতে হবে এখনই। করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বব্যাপীই এর প্রভাব পড়বে।
বেকারত্বের দুইটা দিক। একটা হচ্ছে কর্মহীনতা। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা হয়তো আবার কাজে যোগ দিতে পারবেন। অন্যটা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বা অবকাঠামোগত বেকারত্ব। অর্থাৎ অনেকেই চাকরি হারাবেন। আবার এখন যারা কর্মহীন তাদেরও কাজ পেতে সমস্যা হবে। ফলে ওই সমস্যা সবচেয়ে বেশি জটিল।
করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। নতুন করে কেউ কাজ পাবেন না।
আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন নীতি হচ্ছে রপ্তানিকেন্দ্রিক। আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য একটিমাত্র পণ্যনির্ভর- পোশাকশিল্প। রপ্তানির অন্য খাতগুলো এখানে দাঁড়াতে পারেনি। বর্তমান সংকটে এই রপ্তানি বাণিজ্যে আমাদের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। সে জন্য এখনই পরিকল্পনা নিয়ে শিল্পের বহুমুখী উদ্যোগের দিকে যেতে হবে।
সংকটের সময় যদি ১০ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ৪ লাখের বেশি লোক চাকরি হারাবেন। একদিকে চাকরি হারাবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। ফলে নতুন করে যারা শ্রমবাজারে ঢুকবেন তারা কাজ পাবেন না। সেটি আমাদের মতো অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। এখন আমাদের শিল্পের বহুমুখীকরণ খুব জরুরি। সে জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারকে।
দুর্নীতির কারনে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্হবির হয়ে আছে।ব্যাংক গুলো তারল্য সংকটে ভুগছে। করোনার কারনে ইতিমধ্যে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তার পরিমান ১ লক্ষ কোটি টাকা।এটা আরো বাড়বে ।প্রতিদিন অর্থনীতিতে ক্ষতি হচ্ছে ৩৩০০ কোটি টাকা।
সরকারকে বেশী নজর দিতে হবে খাদ্য ব্যবস্হাপনায়।আমাদের এখন প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ নিম্নবিত্ত পর্যায়ের। খাদ্য জোগাড় করা এদের জন্য কঠিন। প্রান্তিক দরিদ্র লোকেরা হয়তো কিছু ত্রাণ পাচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ নিম্নবিত্ত, যাদের কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। করোনাকালে এবং এরপর দেশে ভয়াবহ খাদ্য সংকট সৃষ্টি হবে। এটা সামাল দেয়া সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
সেই সাথে আইনশৃংখলার অবনতি ঘটবে।ইতিমধ্যই ত্রানের চাল লুটপাট কে কেন্দ্র করে জনগনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।কোথাও কোথাও ডাকাতি হচ্ছে।সামগ্রিক পকিস্হিতি সামাল দিতে হলে সরকারকে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

বিষয়:



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

Top